গাজা উপত্যকায় টানা দুই মাসের ইসরায়েলি অবরোধের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছে, একটি নতুন ত্রাণ ফাউন্ডেশন গঠন করা হচ্ছে যেটি গাজার ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তবে এই উদ্যোগ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, কারণ এতে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে পাশ কাটানো হচ্ছে, যা বহু মানবিক সংগঠনের কড়া সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
নতুন গঠন করা Gaza Humanitarian Foundation (GHF) নামের এই ফাউন্ডেশনটির মাধ্যমে ত্রাণ সরবরাহের একটি বিকল্প ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য ত্রাণ যেন হামাসের হাতে না পড়ে তা নিশ্চিত করা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ প্রচেষ্টায় এই পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
ইসরায়েল এই ফাউন্ডেশন পরিচালনায় সরাসরি যুক্ত থাকবে না, তবে তাদের নিরাপত্তা বাহিনী GHF-এর কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি।
তবে গাজার পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। শুক্রবার ইসরায়েলি হামলায় গাজায় অন্তত ১৮ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে রয়েছে মা ও শিশু, বাবা ও ছেলেও। ইসরায়েল মার্চের শুরু থেকে গাজায় সব ধরনের ত্রাণ প্রবেশ বন্ধ রেখেছে, যা খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধ সংকটকে চরমে নিয়ে গেছে।
মানবিক সংস্থাগুলো বলছে, জাতিসংঘের ভূমিকাকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে এই নতুন পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা UNRWA-র সাবেক মুখপাত্র ক্রিস গনেস একে “এড-ওয়াশিং” বলে আখ্যা দিয়েছেন, অর্থাৎ ত্রাণের নাম করে বাস্তবে মানুষকে অনাহারে রাখার অপচেষ্টা। তিনি বলেন, “এটি জাতিগত নির্মূল অভিযানের অংশ, যেখানে মানুষকে জোর করে দুর্ভিক্ষে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।”
তাঁর মতে, শুধু UNRWA-ই গাজায় কার্যকরভাবে ত্রাণ বিতরণের যথাযথ অবকাঠামো, কর্মী ও সরঞ্জাম রয়েছে। নতুন এই প্রস্তাবে এসবকে ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র বলছে, GHF নিয়ে বিস্তারিত তথ্য খুব শিগগির জানানো হবে। শোনা যাচ্ছে, জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সাবেক নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলি এই ফাউন্ডেশনের প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেতে পারেন।
গাজায় বর্তমানে ২৩ লাখ মানুষ বসবাস করে, যাদের অধিকাংশই একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। খাবার, ওষুধ ও জ্বালানির ভয়াবহ সংকটে তাদের জীবন আজ হুমকির মুখে।
মন্তব্য করুন